দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর চালু হলো স্বপ্নের রানিগঞ্জ সেতু

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর চালু হলো স্বপ্নের রানিগঞ্জ সেতু

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি ও প্রতিদিন প্রতিবেদক: সুনামগঞ্জ-৩(শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এর প্রচেষ্টায় দীর্ঘ প্রতিক্ষার নির্মিত হলো জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর উপর রানিগঞ্জ সেতু। আজ সোমবার সকালে রানিগঞ্জ সেতুর উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে বহু দিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হলো হাওরবাসীর। রাণীগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর উপর স্থাপিত সিলেটের বৃহত্তর সেতুটি উদ্বোধনের ফলে সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকার দুরত্ব কমে আসলো প্রায় ৫২ কিঃ মিটার।
সোমবার রানিগঞ্জ সেতুসহ মোট সুনামগঞ্জের ১৭টি সেতুর ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উদ্বোধন করলেন বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধন উপলক্ষে বিনা টোলে গণপরিবহন চলাচল শুরু করেছে সেতু দিয়ে। পরে পরিকল্পনামন্ত্রী গাড়ী নিয়ে সেতুটি ঘুরে ঘুরে দেখেন। সেতু উদ্বোধন হওয়ায় বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। সেতুটি দেখতে নামছে মানুষের ঢল। সেতুটি সাজাঁনো হয়েছে নানা রঙে। সেতুর আড়াই কিলোমিটার দুরে মানুষজন হেঁটে হেঁটে দেখছেন। তরুন-তরুনী, শিশু কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের ঢল নেমেছে। লোকজন মুঠো ফোনে ধারণ করছেন ভিডিও ছবি। অনেকে সেলফি তুলছেন। অনেকে করছেন ভিডিও লাইভ। তথ্যমতে, সিলেট বিভাগের এই দীর্ঘতম সেতুর দৈর্ঘ্য ৭০২ দশমিক ৩২ মিটার দীর্ঘ ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থ সেতুটি রাজধানী ঢাকার সাথে সংযুক্ত করেছে। এতে প্রায় ২ ঘন্টা সময় বাঁচবে সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকার যাত্রীদের। এ সেতুটি ২০১৯ সালে ১০ আগষ্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা ৬ বছরে এসে শেষ হয়। সড়ক ও জনপথ তথ্য মতে ২০১৪ সালের ২৫ জুন একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রী এই সেতুর ১শত ২৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেন। এ বছরের জুন মাসে সেতুর দরপত্র আহবান করা হয়। ২০১৬ সালের আগষ্ট মাসে যৌথভাবে কার্যাদেশ পায় চায়না রেলওয়ে ২৪ ব্যুারো গ্রুপ এবং এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এমবিইএল। পরে ২০১৭ সালে সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ১শত ২৫ ব্যায়ে এ প্রকল্প ধাপে ধাপে বেড়ে ব্যয় ১শত ৫৫ কোটি গিয়ে দাঁড়ায়। রানীগঞ্জ বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম জানান, সেতু উদ্বোধন হওয়ায় আনন্দের ঢেউ বইছে পুরো জগন্নাথপুর জুড়ে। ফেরি চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্বোধনের দিন গাড়ি চলছে বিনা টোলে। এ সেতু দিয়ে ঢাকার সঙ্গে দুরত্ব কমলো প্রায় ২ ঘন্টা ফলে মৎস্য ও সবজি চাষিরা খুব সহজেই রপ্তানী করতে পারবেন। ঘুরে দাঁড়াবে অর্থনীতির চাকা। সেতুতে ঘুরতে এসে শাহজান মিয়া জানান সেতুটি মানুষজনকে আকৃষ্ট করছে। হেঁটে হেঁটে সেতুটি দেখছি। সাথে অনেক বন্ধুরাও এসেছেন। খুব ভাল লেগেছে।
এ ব্যাপারে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী হাওরবাসীকে ভালবেসে সুনামগঞ্জ রানীগঞ্জ সেতুসহ ১৭টি সেতু উপহার দিয়েছেন। আজ আনন্দমুখুর পরিবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সেতুগুলোর উদ্বোধন করেন। রানিগঞ্জ সেতু পথে গণ পরিবহন চলাচল শুরু করেছে। এতে সময় বাঁচবে। আমরা আরও সময় বাঁচানোর জন্য সরাসরি হবিগঞ্জের সাথে সড়ক সংযুক্ত করার চিন্তা করছি।
সভাস্থল থেকে ভার্চোয়ালে সংযুক্ত হয়ে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন।
এ সময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, সুনামগঞ্জ ১ আসনের সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, সিলেট রেঞ্জের ডি আই জি মোঃ মফিজ উদ্দিন আহমদ, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এহসান শাহ, জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজেদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ পৌর মেয়র নাদের বক্ত, জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি সিদ্দিক আহমেদ, জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও নানা শেণী-পেশার হাজারো জনতা।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *