মন্ত্রী মান্নানকে একহাত নিলেন রুমেন ! ৯৬ এর ইলেকশন ইন্জিনিয়ারিং আবার দেখালেন ২০২২ মান্নান ।

বিশেষ প্রতিনিধিঃ গত১৯ শে অক্টোবর স্হানীয় দৈনিকে জেলা পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে পরিকল্পনা মন্ত্রী প্রকাশিত সংবাদ জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সদ্য সমাপ্ত জেলা পরিষদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা মনোনিত প্রার্থী এডভোকেট খায়রুল কবির রোমেনকে ইংগিত করে দেওয়া মন্ত্রী এম এ মান্নানের বক্তব্যের প্রতিবাদে একহাত নিলেন রুমেন ।

তিনি বলেন ,আজ সুনামগন্জে লোকমূখে পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান জাতীয় বেঈমান হিসেবে চিহ্নিত উনি জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে বেঈমানী করেছেন ,উনি জগন্নাথপুর পৌরসভায় হিরনমিয়া সাহেবের ছেলেকে হারিয়ে বিএনপির মেয়র বানিয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলায় আওয়ামীলীগকে হারিয়েছেন শান্তিগন্জ উপজেলায় আওয়ামীলীগকে হারিয়েছেন ।ইউনিয়ন নির্বাচনে জগন্নাথপুর আওয়ামীলীগ ২ বিদ্রোহী ৫ বিএনপি ১চেয়ারম্যান ।শান্তিগন্জে আওয়ামীলীগ ২ বিএনপি ৪ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মন্ত্রীর নিজের কেন্দ্রে ২নং জয়কলস ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ৯৯ ভোট ।আর বিএনপির প্রার্থী উনার এপিএস (হাসনাতের মামা ) ফরিদ পেয়েছেন ১৩৮৫ ভোট

।উনি বলেছেন আমি নাকি পরিচিত না ,উনাকে হয়ত ইদানিং লোকজন চিনতে পেরেছে,আমি ছাত্রলীগ করেছি যুবলীগ করেছি বর্তমানে জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি দুইবারের পিপি ।মন্ত্রী আওয়ামীলীগে আসার অনেক পূর্ব থেকে আমি আওয়ামীলীগের সক্রিয় নেতা ,উনি আওয়ামীলীগে যোগদান করার পূর্বে আমার বাসায় অনেকবার ধর্না দিয়েছেন ।আমার বাবা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর ১৯৭০ সালের এম এন এ ১৯৭৩ সালের এমপি ১৯৭৫ সালে কারাবরনকারী ।আমৃত জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ।আর আমার আম্মা ছিলেন আমৃত মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ।

মান্নান সাহেব অতীত ভূলে গেছেন উনি ছিলেন খালেদা জিয়ার সময় ময়মনসিংহের ডিসি ,এতদিন কোথায় ছিলেন ,আমি সরকারী চাকুরী ছেড়ে রাজনীতিতে এসেছি আর আপনি এসেছেন অবসর নিয়ে ।মান্নান সাহেব ১৯৭৩ সালে বিসিএসসে যোগ দেননি তিনি ছিলেন সিএসপি ১৯৭১ ব্যাচ ।সারাদেশে যখন যুদ্ধ তখন এই সিএসপি পরিক্ষায় আপনি অংশগ্রহন করেন এবং পাশ করেন ।জয়েন করতে পারেননি ।দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু এই পরিক্ষাকে মেনে নেননি,জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর ১৯৭৭ সালে আপনাকে সিনিয়রিটি দিয়ে ক্যাডারে যোগদান করিয়েছিলেন ।মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিক্ষা দিয়েছিলেন বলে প্রশাসনে উনাকে রাজাকার ব্যাচ বা রাজাকার সিএসপি বলে কৌতক করা হত ।

এম এ মান্নান বলেছেন ,ব্যাস্ততার কারনে তিনি জেলা পরিষদ নির্বাচনে কাজ করতে পারেননি এটা কেমন কথা দুবাই যাওয়ায় আগে তিনদিন তিনিত নিজ এলাকায় ছিলেন ,ইচ্ছে থাকলে একজন মন্ত্রী হিসাবে অনেককিছু করতে পারতেন ।উনার ভাতিজা আপন বড়ভাই আব্দুলবারী হেরু মুন্সীর ছেলে সুজনের জেলা পরিষদের সদস্য পদে বিজয় নিশ্চিত করার জন্য প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী রুকনকে নিস্ক্রীয় করেছিলেন তাহলে কিভাবে ।শান্তিগন্জ উপজেলায় ১০৬ ভোটের মাঝে উনার ভাতিজা সুজন ভোট পেয়েছে ১০২ আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী রুকনুজ্জামান পেয়েছে মাএ ৪ ভোট ।আর এই শান্তিগন্জ উপজেলায় আমি ভোট পেয়েছি মাত্র ৫১ ভোট বাকী ভোট গেল কৈ ?

মাননীয় মন্ত্রী ,এর জবাব কি আছে আপনার কাছে ।নিজের ভাতিজার বেলায় প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীকে নিস্ক্রীয় করলেও বিদ্রোহী প্রার্থী মুকুটের বেলায় তিনি সেটা করেননি ।অথচ জেলা আওয়ামীলীগ মুকুট যাহাতে দলীয় প্রার্থীর বিরূদ্ধে প্রার্থী না হয় সে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনিকে দায়িত্ব দিয়েছিল। কিন্তু তিনি তা পালন করেননি। মনোনয়ন পত্র দাখিলের দিন মুকুটের সাথে যারা ছিল তারা প্রায় সকলেই শান্তিগন্জ এলাকার। এতে কি প্রমান হয়না মন্ত্রীর আসকারা পেয়েই মুকুট প্রার্থী হয়েছেন।

এমনকি মুকুটের বিরদ্ধে গত জেলা পরিষদের মেজরিটি সদস্য গত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যন থাকা অবস্হায় দূর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে অনস্হা দান করে এবং দূর্নীতি দমন কমিশনে অর্ধ শত কোটি টাকারসুনিদিস্ট অভিযোগ দায়ের করে । সেই অভিযোগের বিভাগীয় তদন্ত মন্ত্রী মান্নান আটকিয়ে রেখেছেন ।

আমার পরিচিতি কম হলে তো সারা জেলায় আমি ভোট কম পেতাম ।তা তো হয়নি। কোনো কোনো উপজেলায় আমি মুকুটের চাইতে দ্বিগুণ বেশি ভোট পেয়েছি ।সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগকে স্বাধীনতা বিরোধী গুষ্টির কবল মুক্ত করতে সুনামগন্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সঠিক কাজ করেছে। যারা এটাকে চ্যালেন্জ করেছে আসলে তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে না। তারা ৭৫ এর বেনিফিসারি। স্বাধীনতা বিরোধী ।

১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিবের চাকরীর সুবাধে ইলেকশন ইন্জিনিয়ারিং করেছিলেন আজকের মন্ত্রী এম এ মান্নান তার পুনরাভিত্তি ঘটালেন আবার ২০২২ সালে জগন্নাথপুরে ।প্রাসাদ ষড়যন্ত যাকে বলে । ১৯৯৬ সালের ইলেকশন ইন্জিনিয়ারিং এর ফলশ্রতিতে আওয়ামীলীগ ১টা সিট কম পাওয়ার জন্য এককভাবে সরকার গঠন করতে পারেনি ।উনি বাবু সুরন্জিত সেনগূপ্তের একটি সেন্টার অতি গোপনে একজায়গা থেকে বদল করে দূরবর্তী অন্য জায়গায় পরিবর্তন করে ফেলেন । দিরাই রফিনগর ইউনিয়নে খাগাউরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেন্টারে বাসাকরচ,মেঘনা,,বারঘর,এই তিনটি হিন্দু গ্রামের মানুষ ভোট সেন্টারে গিয়ে দেখে তাদের ভোট ঐ সেন্টারে নেই।

তাদের ভোট নির্বাচনের আগের দিন মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলে গেছে। মাসিমপুর গিয়ে দেখে তারা যাওয়ার আগেই ভোট কাষ্ঠ হয়ে গেছে ।বর্তমানে বাসাকরচ গ্রাম খাগাউরা সেন্টারে ই আছে।আর মেঘনা,বারঘর দুটি গ্রাম নিয়ে আলাদা সেন্টার।। বাসাকরচ ৫১০ মেঘনা ৭৮৫ বারঘর ৩৫৭ বর্তমান ভোট । তখনকার সময়ও ভোট ১৫০০ মত ছিল । মাত্র৫৩৫ ভোটের ব্যবধানে বাবু সুরন্জিত সেনগূপ্ত হেরেছিলেন মান্নান সাহেবের ষড়যন্তের কাছে।

মান্নান সাহেবের এর মত মানুষেরা কখনও আওয়ামীলাগকে ভালোবাসেনা তারা ভালোবাসে শূধু নিজেদেরকে ।নিজের জন্য দল করে ।দলের জন্য কিছু করে না । উনি আগষ্ট মাস শোকের মাসে নৌকা বাইচ করিয়ে আনন্দ ফূর্তি করেন ।এরা কখনোই আওয়ামী লীগে ভোট দেয়না। ভবিষ্যতেও দিবে এমন গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবেনা। তাই যত তাড়াতাড়ি এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্হা গ্রহন করা হবে ততই দলের জন্য মঙ্গল হবে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *