শান্তিগঞ্জে দশ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে তিন গ্রাম লন্ডভন্ড

শান্তিগঞ্জে দশ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে তিন গ্রাম লন্ডভন্ড

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ  সুনামগঞ্জে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের দরগাপুর,আসামমোড়া ও শ্রীনাথপুর গ্রামে শতাধিক কাচা, আধাপাকা ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে শতাধিক মানুষ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।  সোমবার গভীর রাতের ঝড়ে  শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের দূর্গাপুর,আসামমোড়া শ্রীনাথপুর গ্রামের ১০-১৫ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে  শতাধিক বসতঘর এখন মাটির সাথে মিশে গেছে। এসময় বাঁশ, গাছপালা ও টিনের আঘাতে আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন  নারী-পুরুষ। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান প্রায় ১০-১৫ মিনিটের ঝড়ে তাদের সব কিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে দুই শতাধিক গাছপালা উপরে গেছে।

জানা গেছে, তিনটি গ্রামের ১৩০ টি বসতঘর, গরুর ঘর,রান্নাঘর পুরো বিধ্বস্ত হয়ে এখন ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কয়েকশত নারীপুরুষ শিশু খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের বেশির ভাগই কৃষক, দিনমজুর। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া তাদের পক্ষে বসতঘর সংস্কারের কোন পথ খোলা নেই বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা।

ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড়ে তাদের ঘরবাড়ি ছিন্নভিন্ন হয়ে হয়ে গেছে। স্বল্প আয়ে দিনানিপাত করা এসব পরিবারে ঘূর্ণিঝড়ের হানা ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে। এমন বাস্তবতায় সরকারী সহযোগীতার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

পাথারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে দুইশত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষের ঘরের চালের ঢেউটিন কাগজের মতো উড়ে গেছে। প্রতিটি কাচা বসতঘর লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।

এদিকে খবর পেয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে শান্তিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সকিনা আক্তার, শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নুর হোসেন ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন ভূইয়া ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ ঘরবাড়ি পরিদর্শন করেন এবং তাদেরকে সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন।

শান্তিগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নূর হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তালিকা করে ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

এব্যাপারে শান্তিগঞ্জ উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া জানান, পাথারিয়া ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে তিন গ্রামের শতাধিক বসতঘর একদম লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তালিকা তৈরির কাজ করেছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সরকারীভাবে সকল সহায়তা প্রদান করা হবে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার উজ জামান বলেন, মঙ্গলবার রাতের প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সমূহের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন করে তা দ্রুততার সাথে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনদের সহযোগীতা করা সম্ভব হবে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *