জেলা পরিষদ নির্বাচন ,জগন্নাথপুরে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ এনে ফলাফল স্থগিতের দাবি ।

বিশেষ সংবাদদাতা : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট খায়রুল কবীর রুমেন এর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মিজানুর রশীদ ভূঁইয়া নির্বাচনে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ এনে ফলাফল স্থগিতের জন্য তাৎক্ষনিকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সোমবার (১৭ অক্টোবর) জগন্নাথপুর উপজেলার ভোটকেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার পর প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী খায়রুল কবির রুমেনের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রশীদ ভূঁইয়া। তার অভিযোগ ইভিএমএর ভোটিং মেশিনে কয়েকজন ভোটারদের ফিঙ্গার ম্যাচ না হওয়ার পরও ভোটগ্রহণ চলে। যা সম্পূর্ণরূপে অনিয়ম দুর্নীতি ছাড়া কিছু নয়। আমি বিষয়টি মৌখিকভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও তারা কোনো সুরাহা না করায় আমি তাদের ফলাফল বিবরনীতে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকি। অনিয়ম দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতার কারণে কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত রেখে পুনরায় ভোট গ্রহণের আবেদন জানাচ্ছি।

জগন্নাথপুর উপজেলার প্রিসাইডিং অফিসার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো.আক্তারুজ্জামান বলেন, নির্বাচন চলাকালে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ কেউ করেনি। ফলাফল ঘোষণার পর একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর এজেন্ট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। বিষয়টি আমি রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছি। উপরোক্ত বিবরণ সংবলিত সংবাদটি স্থানীয় জগন্নাথপুর টুয়েন্টি ফৌর ডটকম ও জাতীয় দৈনিক কালের কন্ঠ এর অনলাইন ভার্সনে প্রকাশ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো.মুজিবুর রহমান বলেন,ইভিএমের কোন ত্রুটি নয় দুজন ভোটারের ফিঙ্গারিং এর সমস্যা ছিল। তাই প্রথমে ইভিএমে ভোট গ্রহন না করায় তারা ভোট দিতে পারেননি। কিন্তু ২টার মধ্যে যেহেতু তারা কেন্দ্রতে উপস্থিত ছিলেন তাই পরে তাদের ভোট গ্রহন করা হয়েছে। তিনি তাদের ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ছিল বলেও নিশ্চিত করেন।

অভিযোগে কি কি বিষয় উল্লেখ করা আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,অনিয়ম ও ভোট কারচুপিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগকারী অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রথমে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে। আমরা সেই অভিযোগটি তাৎক্ষনিকভাবে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে জেলা প্রশাসক ও জেলা নির্বাচন অফিসারের কাছে প্রেরণ করেছি।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মো.মিজানুর রশীদ ভূইয়া বলেন,১২ টার সময় রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের একজন মেম্বার এবং আশারকান্দি ইউনিয়নের একজন মহিলা সদস্যা ভোটকেন্দ্রে এসে ইভিএম জটিলতার কারণে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হন। ভোটগ্রহনকারীরা প্রথমে তাদেরকে ডিসঅনার করেন। পরে নিয়ম ও বিধি ভেঙ্গে বেলা আড়াইটার সময় তাদেরকে ঢেকে এনে ভোট গ্রহন করেন। এসব অনিয়মের কারণে পুরুষ এবং মহিলা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত ঘোড়া প্রতীকের আমরা দুইজন এজেন্ট তথাকথিত ফলাফল বিবরনীতে স্বাক্ষর করিনি।

আমরা চ্যালেঞ্জ করছি অজ্ঞাত কোন অবাঞ্চিত হস্তক্ষেপে বেআইনীভাবে আমাদের নিশ্চিত বিজয়কে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলায় ভোট কেন্দ্রটি স্থানীয় কোন উচ্চ বিদ্যালয়ে না রেখে প্রশাসনিক ভবনে রাখার পেছনেও একটি প্রাসাদ ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে আমরা মনে করছি।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *