সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচন,কেন্দ্রের গোয়েন্দা নজরদারীতে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা

বিশেষ প্রতিবেদক : সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে সরকারী দল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের প্রতি কেন্দ্রের গোয়েন্দা নজরদারী ততই বাড়ছে। শুধুমাত্র মূল সংগঠন আওয়ামীলীগই নয় বরং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও রয়েছেন নজরদারীতে। এমনকি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কে কোথায় কি বলছেন সেই রিপোর্টও রয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেক্টরের হাতে। দলীয় প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত মনোনয়ন পত্র ও দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কে কার স্বার্থে কোন যুক্তিতে বিষোদঘার করছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুনামগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে প্রকাশ্য বিদ্রোহ যদিও নতুন কোন ঘটনা নয় তারপরও এ বিদ্রোহের নেপথ্যে আসলে সরকারী দল কতটা ক্ষতিগ্রস্থ এবং বিরোধীদল কতটুকু লাভবান হচ্ছে তারও বিশ্লেষনমূলক আলোচনা হচ্ছে নীতি নির্ধারক মহলে। বিদ্রোহের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে অনেকে বলছেন,এটা জাতীয় নির্বাচন নয় স্থানীয় সরকারের নির্বাচন এবং এ নির্বাচনে কোন দলীয় প্রতিক নেই। আসলে কথাটা যেমন সত্য তেমনি সত্য দলের সভানেত্রী দলীয় প্রতীক নেই জানা স্বত্তেও কেন লিখিত মনোনয়নপত্র প্রদান করলেন। তাই নেত্রীর লিখিত সমর্থিত প্রার্থী যদি বদনা প্রতীকও পায় তাহলে দলীয় নেতাকর্মীদের উচিত বদনা প্রতীকের পক্ষে অবস্থান নেয়া। চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৪ দলের মনোনিত প্রার্থী ছিলেন সাবেক মেয়র এবিএম মহীউদ্দিন চৌধুরী তার প্রতীক ছিল হারিকেন। লালদিগীর ময়দানে শেখ হাসিনা হারিকেন প্রতীকে মহীউদ্দিনের পক্ষে ভোট চেয়েছিলেন। সুতরাং প্রতীকের দোহাই দিয়ে যারা বড় বড় বুলি আওরাচ্ছেন তারা আসলে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। আওয়ামীলীগের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন,নির্বাচন আসলেই দলের নেতাকর্মীদেরকে বহিস্কার অব্যাহতি শোকজসহ দন্ড দেওয়া শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দন্ডের প্রথা বর্তমান জেলা পরিষদ নির্বাচনেও শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সরকারী দল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা ওৎপেতে বসে আছেন এই সুযোগের অপেক্ষায়। কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশের বারোটা কখন বাজে সেদিকে দৃষ্টি এখন সকলের। বিশেষ করে দলীয় সভাপতি,সহ-সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে যারা প্রতিনিধিত্ব করছেন তাদের অবস্থানটা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কেউ কেউ বিগত দিনে বগলে ইট মুখে শেখ ফরিদ নিয়মের ভিত্তিতে জামাত বিএনপিকে বগলে রেখে সকল সুবিধা নিয়ে সরকারী দলের পদ দখল করে রেখেছেন। আবার বিএনপি ও জামাতের মূল দায়িত্বে থেকে অনেক পদধারী নেতারা আওয়ামীলীগের বিটিম হিসেবে কাজ করেছেন। মিলেমিশে দ্বা›দ্বাবাজী যাকে বলা হয় তাই হয়েছে সুনামগঞ্জে। আশ্বর্যের বিষয় হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন,উপজেলা নির্বাচন,সংসদ নির্বাচন সর্বশেষ জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের বিরোধীতা করা,দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করা,প্রতিপক্ষের বিজয়ে নেপথ্যে ইন্ধন যোগানো,দলীয় আদর্শকে জলাঞ্জলি দেওয়া ইত্যাদি হরহামেশা সুনামগঞ্জে ঘটে গেলেও কার্যত কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়না দলটির নীতি নির্ধারকদের পক্ষ থেকে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে দলের মীর্জাফরদেরকে গডফাদাররাই লালন করে থাকেন বেশী। তাই সুনামগঞ্জে দলীয় শৃঙ্খলা বলতেই কিছু থাকেনা। শৃঙ্খলা ভংগকারীরাই সবচেয়ে ক্ষমতাধর এই জনপদে। আবার শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীরা অনেক সময় নানা কৌশলে হাম্বিতম্বী দেখিয়ে দলের মন্ত্রী এমপিদের অপমান করে ক্ষমতাকে আকড়ে থাকে। একসময় প্রতিপক্ষকে কালো পতাকা দেখানো,অবাঞ্চিত ঘোষণা করা,প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রতিপক্ষকে মামলা দিয়ে হয়রানী করা হতো। এখন ডিজিটাল রাজনীতির যুগে ভিন্ন ষ্টাইলে চলছে শৃঙ্খলা ভঙ্গ কার্যক্রম। সময় ও সুযোগে প্রতিপক্ষ দলের সহযোগীতা নিয়ে নিজের পক্ষকে ঘায়েল করে রাজনৈতিক বৈতরনী পার হয়ে আসলে কে কার দল এবং কার আদর্শ বাস্তবায়ন করতে চান তা বুঝা বড়ই মুশকিল। ছাতক দিরাই শাল্লাসহ বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে আওয়ামীলীগের এমপি ও নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদঘার করা হয়েছে। যিনি এটা করেছেন তিনি জানেননা আসলে তিনি তার অবস্থান ও চরিত্রটা সকলের কাছে সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন। মনে রাখতে হবে সকল এমপি নেতা পাতিনেতা চাইলে অনেক টাকার মালিক হতে পারবেন,দলের বিরুদ্ধে বিষোদঘার করেও ঠিকে থাকতে পারবেন তাই বলে সবাই সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত হতে পারবেননা। একবার সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবে একটি বর্ধিত সভায় বিএনপির সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে উদ্দেশ্যে করে বলেছিলেন,“তাহলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি বুঝাতে চাইছেন বিশ্বজিৎরা আল্লাহর আইন আর বাংলা ভাইরা দেবতার আইন প্রতিষ্ঠা করছে”। অর্থাৎ যারা জন্ম থেকেই দেশের স্বাধীনতা স্বায়ত্বশাসন গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির ঘোরবিরোধী তারা যখন মুজিবকোর্ট গায়ে লাগিয়ে আওয়ামীলীগ সাজার চেষ্টা করে এরা যেমন মনেপ্রাণে খাটি আওয়ামীলীগার বা মুজিবপ্রেমী হতে পারেনা তেমনি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কোন লোক শতবার জন্ম নিলেও বিরোধী শিবিরে স্থান করে নিতে পারবেনা। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা পংকজ দেবনাথকে অবশেষে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার জন্য দায়ী করেছেন এটা আওয়ামী রাজনীতিতে একটা বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে এজন্য যে ব্যক্তির চেয়ে দল বড় এই বিষয়টা সকলের কাছে সুস্পষ্ট হবে। এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামীলীগের ডাকসাইটের নেত্রী আমেনা বেগমকে দল থেকে বহিস্কার করে প্রমাণ করেছিলেন ব্যক্তির চাইতে দল বড়। তাই দলের কোন নেতাকর্মীরা যদি বারংবার বিদ্রোহী সেজে দলের শৃঙ্খলার মধ্যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আঘাত হানে তাদের বিরুদ্ধে দেরীতে নয় তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহন করলে দল কলংকমুক্ত হবে এটাই স্বাভাবিক। সুনামগঞ্জে কোন বিদ্রোহীর কি শাস্তি হয় এটাই এখন সকলের দেখার বিষয়। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের গোয়েন্দা নজরদারী পরিস্থিতি কোনদিকে মোড় নেয় সেদিকে দৃষ্টি এখন সকলের।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *