Breaking News

সুনামগঞ্জ আদালত চত্বরে খুন,আটক ৩

সুনামগঞ্জ আদালত চত্বরে খুন,আটক ৩

বিশেষ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের আদালত চত্বরে প্রতিপক্ষের উপুর্যপুরি ছুরিকাঘাতে খোকন মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। নিহত খোকন মিয়া জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার গলাখাল গ্রামের ফটিক মিয়ার ছেলে। বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) বেলা একটার দিকে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আদালত চত্বরের আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। আইনজীবী ও তাদের সহকারিরা হামলকারিদের আঘাতকারীদের পালাতে দেননি, চারদিকে ঘেরাও দিয়ে আটক করে তাৎক্ষণিক পুলিশে সোপর্দ করেছেন।
আটককৃতরা হলেন, গলাখাল গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে ফয়েজ আহমদ, আফরোজ মিয়ার ছেলে সাজিদ মিয়া ও আফরোজ মিয়ার সেবুল মিয়া। ঘটনায় জড়িত সাহান নামের অপর এক যুবককে পালিয়ে যেতে পুলিশ সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জগন্নাথপুর উপজেলার গলাখাল গ্রামের নিহত খোকন মিয়ার সাথে একই গ্রামের একটি পক্ষের সাথে জমিজমা জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছিল। আজ বৃহস্পতিবার নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজিরা দিতে আসলে আদালত এলাকার আইনজীবী সহকারী সমিতির কার্যালয় প্রাঙ্গনে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খোকন মিয়াকে ঘিরে দাঁড়ায় কয়েকজন। এ সময় একজন খোকন মিয়াকে ঘুষি মারে। আরেকজন ছুরিকাঘাত করতে থাকে। অন্য আরেকজন তালার চাবি দিয়ে ঘা দিতে থাকে। রক্তাক্ত খোকন মিয়াকে তাৎক্ষণিক সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী হাবিবুর রহমান বললেন, ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাতের সময় বোঝা গেছে ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা ফেরাতে ফেরাতে অসংখ্যবার শরীরে ছুরিকাঘাত করে হামলাকারী একজন। অন্যরাও নানাভাবে আঘাত করে।
খোকন মিয়ার চাচাতো ভাই মাসুক মিয়া জানান, গ্রামের লাল মিয়ার সঙ্গে বাড়ির জায়গা নিয়ে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে মামলার তারিখে এসেছিলেন তারা। তিনি আদালত প্রাঙ্গনের এক দোকানে বসেছিলেন। তার পাশ থেকেই খোকন মিয়া ওঠে আসেন। এ সময় লাল মিয়ার ছেলে ফয়েজ, ইসরাইল, বাদশা মিয়ার ছেলে সাহান, আফরোজ মিয়ার ছেলে সেবুল ও সাজিদ তার ভাই খোকন মিয়াকে উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাতে খুন করে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত ডা. রবীন্দ্র তালুকদার জানান, গুরুতর আহত খোকন মিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই মারা যান। নিহতের শরীরে বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত আছে।
বেলা দেড়টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবু সাঈদ। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আইনজীবীদের সহযোগিতায় যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার কারণ উদঘাটন করা হবে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় কর্তব্যরত পুলিশ কর্তৃক দায়িত্ব পালনে অবহেলার কোন প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.