সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

বিশেষ প্রতিনিধি: তিন দিন ধরে বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল বন্ধ থাকায় সুনামগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। জেলা সদর ছাড়া ছাতক ও দোয়ারাবাজার-এ দুই উপজেলা বন্যায় আক্রান্ত ছিল বেশি। দুই উপজেলার রাস্তাঘাট বসতবাড়ি থেকে পানি নেমে যাচ্ছে। নতুন করে উজান থেকে ভাটির জনপদে দু-একটি উপজেলায় পানি বাড়লেও সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে পানি নেমে যাচ্ছে। তবে হাওর সংলগ্ন পাড়া-মহল্রা থেকে পানি নামছে অত্যন্ত ধীর গতিতে। যেখানে কোমরসমান পানি ছিল, সেখানে এখন হাঁটুসমান পানি। কোথাও আবার রাস্তাঘাট ভেসে উঠেছে। বাড়িঘর থেকেও সরেছে পানি। তবে জেলার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল এখনো প্লাবিত আছে। অনেকের ঘর থেকে পানি নামলেও বাড়ির বাইরে পানি রয়ে গেছে। পানির সাথে ময়লা আবর্জনা মিশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে বন্যার ভোগান্তি এখনো শেষ হয়নি।
বন্যাকবলিত লোকজন আশক্সক্ষা করছেন, প্লাবিত এলাকায় পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ও ডায়রিয়ায় মানুষজন বেশি আক্রান্ত হওয়ার আশক্সক্ষা রয়েছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আহমদ হোসেন বলেন, সুনামগঞ্জের কোথাও পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব এখনো পরিলক্ষিত হয়নি। আমাদের স্বাস্থ্য কর্মীরা মাঠে আছেন। তারা নিজ নিজ এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করছেন, পাশাপাশি যেসব নলকুপ বন্যার পানিতে ডুবে গিয়েছিল সেসব নলকুপ থেকে আপাতত পানি না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। সিভিল সার্জন আরও বলেন, সুনামগঞ্জ জেলায় ১২৭ টি মেডিকেল টিম গঠন করে দেয়া আছে। প্রতিটি উপজেলার ইউনিয়নে ১টি করে টিম কাজ করছে। এর মধ্যে ছাতক উপজেলা বেশি আক্রান্ত হওয়ায় সেখানে প্রতি ইউনিয়ন/ওয়ার্ডে ৩টি করে মেডিকেল টিম কাজ করছে।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে উল্লেখ করার মত রোগী এখনো সুনামগঞ্জ সদর হাসাপাতালে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ সাধারন নাগরিকদের পানিবাহিত রোগ থেকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক সচেতন- উল্লেখিত রোগের প্রকোপ ব্যাপক হারে দেখা দেওয়ার আশক্সক্ষা কম।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, সুনামগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘন্টায় আবহাওয়া অপরিবর্তিত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। সুনামগঞ্জে গত তিন দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি। উজানের পাহাড়ি ঢল নেমেছে কম। এতে সুরমা নদীর পানি কমছে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় সুরমার পানি বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলার ভাটির জনপদ শাল্লা, দিরাই ও জগন্নাথপুর উপজেলায়ও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, জেলা সদর বাদে সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা চলমান বন্যায় বেশি আক্রান্ত ছিল। এসব এলাকা থেকে ধারাবাহিকভাবে অনেক পানি নামছে। অপরদিকে, নতুন করে দু-তিনটি উপজেলায় পানি বাড়লেও তা স্থিমিত হয়ে এসেছে। সার্বিকভাবে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সমূহের মাঝে সরকারি ত্রান বিতরণ অব্যাহত আছে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *