Breaking News

সুনামগঞ্জে বন্যার পানি
উজানে কমছে,ভাটিতে বাড়ছে

সুনামগঞ্জে বন্যার পানি<br>উজানে কমছে,ভাটিতে বাড়ছে

বিশেষ প্রতিনিধি: গত দুই দিন ধরে বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢল কম থাকায় সুনামগঞ্জে বন্য কবলিত উপজেলাগুলো থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। জেলার প্রধান নদী সুরমায় সবচেয়ে দ্রুত পানি কমছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে সুরমায় পানি কমেছে ১৮ সেন্টিমিটার। তবে হাওরের দিকে পানি কমছে ধীর গতিতে। অপর দিকে সুনামগঞ্জের ভাটির উপজেলা দিরাই, শাল্লা, জগন্নাথপুর ও জামালগঞ্জের নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে
দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় গত দুই দিনে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দু-এক দিনের মধ্যে এই দুই উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুর রহমান বলেন, উজানে পানি কমায় দিরাই উপজেলায় পানির চাপ বেড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দু-এক দিনের মধ্যে দিরাই বন্যাকবলিত হতে পারে।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু তালেব বলেন, এই উপজেলায় ২৪ ঘণ্টায় অন্তত তিন ফুট পানি বেড়েছে। বন্যার আশঙ্কায় উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য ১০৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও প্রয়োজনীয় মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সুনামগঞ্জে বন্যাকবলিত পাঁচ উপজেলার মধ্যে ছাতক ও দোয়ারাবাজার আক্রান্ত হয়েছে বেশি। ১৪ মে থেকে এই দুই উপজেলার সব ইউনিয়নের মানুষ কমবেশি পানিবন্দী। ছাতক উপজেলার উত্তরের ইউনিয়নগুলোয় পানি কিছুটা কমেছে। তবে বেড়েছে দক্ষিণের জাউয়াবাজার, গোবিন্দগঞ্জ, সৈয়দেরগাঁও ও সিংচাপইড় ইউনিয়নে।
বন্যার পানিতে সড়ক প্লাবিত হওয়ায় সরাসরি যান চলাচল বন্ধ থাকা ছাতক ও তাহিরপুর উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরে যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। তবে দোয়ারাবাজার উপজেলার সঙ্গে এখনো যান চলাচল বন্ধ আছে।
ছাতকের ইউএনও মামুনুর রহমান বলেন, উপজেলায় ১০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৩০টি পরিবার আছে। পানি কমায় ছাতক-সিলেট সড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে। একইভাবে দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে আছে ৬০টি পরিবার।
দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান আল তানভির আশরাফী চৌধুরী বাবু বলেন, দোয়ারাবাজারে পানি কমছে, তবে সেটা খুবই ধীরে। যে কারণে মানুষে ভোগান্তি হচ্ছে বেশি।
এদিকে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় এখনো পানি আছে। শহরের উত্তরে সুরমা নদী এবং দক্ষিণে দেখার হাওরের তীরবর্তী এলাকাগুলোয় পানি রয়েছে। শহরের কালিপুর, বড়পাড়া, মল্লিকপুর, ওয়েজখালী, শান্তিবাগ, পশ্চিম নতুনপাড়া, হাসনবসত, পশ্চিম হাজীপাড়া, হাসননগর ও সুলতানপুর এলাকায় এখনো বন্যার পানি বিরাজ করছে। হাসননগর ও সুলতানপুর এলাকার ৬৬টি পরিবার সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে আশ্রয় নিয়েছে। একইভাবে মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও সেখানকার কিছু পরিবার রয়েছে। মল্লিকপুর এলাকার বাসিন্দা ও পৌর কাউন্সিলর আহমদ নূর জানান, পানি সামান্য কমেছে। তবে কিছু মানুষের বাড়িঘরে এখনো পানি আছে। শহরের কালিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে কোমর পানি থাকায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা আসতে পাছে না। পানির কারনে গত ৪/৫ দিন ধরে উক্ত বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, রবিবার বিকেল ৩টায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ৬৫ সেন্টিমিটার। তিনি জানান, বিকেলে সুরমার বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় ১৬৫ মেট্রিক টন চাল ও ১২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। জেলা এখন পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ২০টি। এতে প্রায় ৩০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। নদী ও হাওরে পানি কমতে শুরু করেছে। আশা করি, দু-এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.