1. newsjibon@gmail.com : adminsp :
হাঁস পালনে স্বাবলম্বী শান্তিগঞ্জের জিতেন্দ্র - সুনামগঞ্জ প্রতিদিন
শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন

হাঁস পালনে স্বাবলম্বী শান্তিগঞ্জের জিতেন্দ্র

  • বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ, ২০২৪
  • ৩৯ বার পঠিত
Spread the love

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের নগর গ্রামে হাঁস পালন করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন জিতেন্দ্র দাস (৪৫)। তার এই সফলতায় এলাকার বেশ কিছু বেকার যুবক হাঁস পালনে উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা শুরু করেছেন। দারিদ্র্যতার টানাপোড়েনে লেখাপড়াও জোটেনি জিতেন্দ্রর। কোনো কাজের অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রথমে ১শত হাঁসের বাচ্চা দিয়ে খামার গড়ে তুলে এখন ভাগ্য বদল হয়েছে তার। শুধু জিতেন্দ্র দাসই না এরকম হাঁস পালন করে ভাগ্য বদল হয়েছে উপজেলার অনেক মানুষের। তবে করোনার কারণে খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় এবং বিক্রি না করতে পারায় আগের চেয়ে কম লাভবান হচ্ছেন জিতেন্দ্র। বুধবার সরেজমিনে জিতেন্দ্র দাসের খামারে গিয়ে তার সাথে কথা বলে জানা যায়, অভাবের সংসারে অর্থের অভাবে ভালো কিছু করতে পারেননি তিনি । নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কিছু করার। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই স্বপ্নটা সত্যি হয়ে উঠে না। অনেক ভেবে চিন্তে ঠিক করেন হাঁসের খামার গড়ে তুলবেন। সে ভাবনা থেকেই জীবিকা নির্বাহের তাগিদে গত ১২ বছর আগে ১শতটি হাঁসের বাচ্চা দিয়ে শুরু করেন ছোট একটি হাঁসের খামার। অর্থনৈতিক দৈন্যতার মধ্যেও খেয়ে না খেয়ে পরিচর্যা চালান খামারে। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি, এভাবেই শুরু হয় জিতেন্দ্র দাসের এগিয়ে চলার গল্প। বর্তমানে তার খামারে হাঁসের সংখ্যা ৬ শতাধিক। তিন মাস বিরতিহীনভাবে প্রতিদিন হাঁসগুলো গড়ে ডিম দেয় ৪শতটি। এছাড়া তিন থেকে চার মাস পর পর পরিপক্ক হাঁস প্রতিটি বাজারে বিক্রি হয় ৩শত থেকে ৩শত ৫০ টাকায়। হ্যাচারি থেকে হাঁসের বাচ্চা কিনে এনে পালন করে প্রতিটি পরিপক্ক হতে খাদ্য ও ওষুধ বাবদ সর্বসাকুল্যে খরচ হয় প্রায় ১২০ টাকা। হাঁস খামারি জিতেন্দ্র দাস বলেন, অভাবের সংসারে দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে হাঁস পালন করে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছি। দারিদ্রতার মধ্যে নিজে না খেয়ে হাঁসগুলোকে সন্তানের মতো পরিচর্যা করেছি। ঈশ্বর মুখ তুলে দেখেছেন, তাই এসেছে সংসারে স্বচ্ছলতা, ঘুচেছে অভাবের কঠিন দিনগুলো। হাঁসের খামারের আয় থেকে সংসার চালিয়ে অনেক উন্নতি করেছি । অতীত স্মরণ মনে করে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তিনি আরও বলেন, নিজে তো পড়াশুনা করতে পারিনি, তাই ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালানোসহ পরিবারের সবধরনের চাহিদা পূরণ করে আসছি এ হাঁস খামারের আয় থেকে। এখন নিজে স্বাবলম্বী হয়েছি, অভাব-অনটন কেটে গেছে। উপজেলার সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বেকার যুবক-যুবতীরা হাঁসের খামার করে স্ববলম্বী হয়ে নিজেদের ভাগ্য বদল করা সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ জুবায়ের আহমদ বলেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা ছোটবড় মিলিয়ে প্রায় আড়াইশ -৩শত হাঁসের খামার রয়েছে। আমরা বিভিন্ন সময় খামারীদের কিভাবে হাঁস পালন করতে হয়, হাঁস রোগাক্রান্ত হলে কি করতে হয় এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। অনেকেই সঠিক নিয়মে হাঁসগুলিকে খাবারসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিচর্যা করে হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।


Spread the love
এই বিভাগের আরো খবর

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: জুনায়েদ চৌধুরী জীবন

© All rights reserved © সুনামগঞ্জ প্রতিদিন
Theme Customized BY LatestNews
error: Content is protected !!