সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বাধনপাড়া থেকে চম্পা বেগম (১৭) নামের এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ মে) সকালে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম নিক্কুর বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত চম্পা বেগম জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। পরিবারের অভিযোগ, রেজাউল করিম নিক্কুর পরিবারের সদস্যদের নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে চম্পার ।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে রেজাউল করিম নিক্কুর বাসায় কাজে যোগ দেন চম্পা। কিন্তু, দেড় বছরের মাথায় তিনি বাড়িতে ফিরে যান। এর কিছুদিন পর নিক্কু ফের চম্পাকে নিজের বাসায় নিয়ে আসেন।
চম্পার বাবা বাদশা মিয়া বলেন, আমার মেয়ে প্রায় তিন বছর আগে ওই বাড়িতে কাজে যোগ দেয়। প্রথমে সে আমাদের কিছু বলেনি। কিছুদিন পরে জানায়, সেখানে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে। পরে আমরা তাকে বাড়ি নিয়ে যাই। কিন্তু, কয়েকদিন পর বাড়ির মালিক নিক্কু সাহেবের অনুরোধে মেয়েকে আবার তাদের বাসায় পাঠাই। আজ (১৪মে) সকালে শুনি আমার মেয়ে আর বেঁচে নেই। আমার মেয়েকে তারা নির্যাতন করে মেরে ফেলছে। আমি বিচার চাই।
চম্পার চাচা পিয়ার আলী বলেন, চেয়ারম্যানের ছেলে শুভ মেয়েটাকে মেরে জানালাতে লটকিয়ে রেখেছে। মেয়েটি থাকতো নিচ তলায়, শুভ‘র রুমের জানালায় লটকানো পাওয়া গেছে। আমরা আসার পর তাদের কাউকে পাই নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে রেজাউল করিম নিক্কুর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে তার বড় ছেলে অ্যাডভোকেট ইশতিয়াক আলম পিয়াল বলেন, সকালে এই ঘটনা দেখে পুলিশকে ফোন দিয়েছি। পরে জানতে পারলাম এক ছেলের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্ক ছিলো। রাতে নাকি ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছে। স্ট্যাটাস দেখলেও বুঝা যাবে, কীভাবে কী হয়েছে। আমাদের পরিবারের কেউ তাকে নির্যাতন করেনি। এটা অসত্য অভিযোগ।
প্রতিবেশীরা জানান, রেজাউল আলম নিক্কুর পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে দেখছি। তাদের ব্যবহার খারাপ,এটি কেউ বলতে পারবেন না। তবুও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে বলে আশা করি।
ঘটনার বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মনিবুর রহমান বললেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: জুনায়েদ চৌধুরী জীবন