1. newsjibon@gmail.com : adminsp :
শাল্লায় ভিজিডি'র সঞ্চয়ের ১১ লাখ টাকা ইউপি সচিবের পকেটে! - সুনামগঞ্জ প্রতিদিন
সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ০২:৪৪ অপরাহ্ন

শাল্লায় ভিজিডি’র সঞ্চয়ের ১১ লাখ টাকা ইউপি সচিবের পকেটে!

পাবেল আহমেদ,শাল্লা প্রতিনিধি
  • রবিবার, ৯ জুন, ২০২৪
  • ১১ বার পঠিত
Spread the love

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর পরিচালিত দুস্থ মহিলা উন্নয়ন (ভিজিডি) কর্মসূচির নতুন নামকরণ করা হয়েছে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি)। শাল্লায় এই কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের সঞ্চয়ের প্রায় ১১ লাখ টাকার কোন হদিস নেই। উপজেলার ১নং আটগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে এমন ঘটনা ঘটেছে। ইউনিয়ন পরিষদের আওতাভুক্ত (ভিডব্লিউবি) সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে প্রতি মাসের সঞ্চয়ের টাকা জমা হচ্ছে না ব্যাংকে। নীতিমালা বলছে এ টাকা সুবিধাভোগীদের স্ব স্ব নামে একাউন্ট চালু করে সেখানে রাখা কথা। কিন্তু কোনরকম নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই ইউনিয়ন পরিষদের সচিব প্রবীন রঞ্জন পুরকায়স্থ টাকা ব্যাংকে জমা দিচ্ছেন না। তবে এই টাকা সচিবের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে বেরিয়ে এলো অনুসন্ধানে। অনুসন্ধানে জানা যায়, আটগাঁও ইউনিয়নে ভিডব্লিউবি উপকারভোগী মোট ৫৪২ জন। প্রতি মাসে ভিজিডির চাল বিতরণের ঠিক পূর্ব মূহুর্তে সঞ্চয়ের জন্য একজন সুবিধাভোগী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তার কাছে জমা দেন ২২০ টাকা। এই হিসেবে বিগত ১৬ মাসে (২০২৩ এর জানুয়ারি থেকে ২০২৪ এর এপ্রিল পর্যন্ত) ব্যাংকে জমা হওয়ার কথা ১৯ লাখ ৭ হাজার টাকা। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আটগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক এশিয়ার মাদার একাউন্টের চলতি মাসের ১ তারিখের ব্যাংক স্টেটমেন্ট অনুযায়ী, ব্যাংকে জমা রয়েছে মোট ৮ লাখ ২২ হাজার টাকা। যেখানে ১৯ লাখ ৭ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা থাকার কথা সেখানে রয়েছে মাত্র ৮ লাখ ২২ হাজার টাকা। অপর দিকে প্রায় ১১লাখ টাকার হদিস নেই। নীতিমালা অনুযায়ী, ভিজিডি সুবিধাভোগীদের কাছে চাল বিতরণের সময় টাকা জমা রাখেন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব। তবে সহযোগী হিসেবে মাঝে মাঝে সচিবের নির্দেশে টাকা জমা নেন ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা। কিন্তু নিয়মানুসারে চাল বিতরণের পূর্বেই ব্যাংকে স্ব স্ব একাউন্টে কিংবা মাদার একাউন্টে টাকা জমা দেয়ার কথা। তবে এই ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করছেন না ইউনিয়ন সচিব। নিয়ম ভঙ্গ করে জমা নেয়া টাকা পরবর্তিতে ব্যাংক এশিয়ার মাদার একাউন্ট অথবা সুবিধাভোগীদের স্ব স্ব নামে খোলা একাউন্টে জমা দিতে হবে। কিন্তু জমা নেয়া টাকা ব্যাংকে না রেখে তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করার আভাস পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় গেল বছরের ১২ মাসের মধ্যে ১ মাসের টাকাও জমা দেননি সচিব প্রবীন রঞ্জন পুরকায়স্থ। তিনি ২০২৩ সালের ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা হস্তগত করেন। পরে ইউপি সদস্যদের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হলে তিনি ২০২৪ সালের মার্চ মাসের পরে ৮ লাখ টাকা জমা দেন। একাধিক উপকারভোগী জানান, আমাদের সঞ্চয়ের টাকা সচিবের হাতে থাকবে কেন? এই টাকা সচিবে কি মেরে দেওয়ার চিন্তা করতেছে কিনা জানিনা।আমরা চাই দ্রুত সঞ্চয়ের টাকা আমাদের একাউন্টে জমা হোক। কেন দীর্ঘদিন তার হাতে টাকা জামা রাখলো তারও বিচার হোক। এবিষয়ে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা ও ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট শেফালি আক্তার ডকুমেন্টারি বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়, এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন সংবাদে তার নাম আসলে চতুর সচিবের রোষানলের শিকার হবেন তিনি। তবে তিনি এ প্রতিবেদকে আলাপচারিতায় জানান, সচিবের নির্দেশে মাঝে মাঝে আমি সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে টাকা জমা নেই এবং তাদের ভিজিডি কার্ডে জমা দেয়া টাকার পরিমান লিখে দেই। কিন্তু টাকা ব্যাংকে জমা দেবার আগেই সচিব মাস্টার রোলের কথা বলে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নেন। পরবর্তীতে উনাকে বারবার টাকার কথা বললে তিনি রাগান্বিত হন। এমন কি আমার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন কাজ থেকে আমাকে বঞ্চিত করেন। তাই আমি কিছু বলতে চাই না ভাই। এমনিতেই আমি বিভিন্ন ভাবে কোনঠাসা আছি আর বিপদ বাড়াতে চাই না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউপি সদস্য জানান, এমন রংবাজি করতে কোন সচিবকে দেখিনি। এই টাকা নিয়ে কথা বললেই শেষে চেয়ারম্যানে উপর দায় চলে যায়। তখনি নিরব হয়ে যেতে হয়। চেয়ারম্যানকে বললে বলবে সচিবের কাছে টাকা সচিবকে বললে বলবে চেয়ারম্যানের কাছে টাকা। আমি মনে করি তারা ভিজিডির সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে সুদের ব্যবসা করেন। ব্যাংক এশিয়ার সুনামগঞ্জ জেলা ম্যানেজার মোঃ সাইদুজ্জামান জানান, প্রত্যেক উপকারভোগী আগে ব্যাংকে সঞ্চয়ের টাকা জমা দিবে তার পর ভিজিডির চাল পাবে। কিন্তু কেন জানি আটগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে এটা করা হচ্ছে না। ইতোমধ্যে ব্যাংক সচিব কিছু টাকা জমা দিয়েছে। আরো অনেক টাকা জমা দেননি। আমি একাধিকবার ফোন দিয়েছি কিন্তু তিনি টাকা দেই দিচ্ছে বলে সময় ক্ষেপণ করছেন। এনিয়ে ইউপি সচিব প্রবীন রঞ্জন পুরকায়স্থের বক্তব্য মুঠোফোনে নিতে চাইলে তিনি বলেন, দাদা আমাকে একটু সুযোগ দেন। আমি অফিসে এসে আপনাকে হিসাব বুঝিয়ে দিব। প্লীজ দাদা দুই দিন সময় দিন। প্রতিবেদক আপনার বক্তব্য কি জানতে চাইলে তিনি আমার কোন বক্তব্য নেই বলে ফোন কেটে দেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আন্ নোমান জানান, ভিজিডির টাকাটা ব্যাংকে জমা হয়নি এটা আমি জেনেছি। টাকাগুলো বর্তমানে সচিবের কাছে রয়েছে। শাল্লা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল হক চৌধুরী জানান, ভিজিডির চাল প্রতিজনে ৩০ কেজি পেয়ে থাকেন।৩০ কেজি অনুসারে আটগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ১৫৭ বস্তা চাল আমাদের গুদামে আছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, সরকারি টাকা কারো হাতে রাখা বা আত্মসাৎ করার সুযোগ নেই। আমি আগেও বলেছি টাকা জমা দিতে। এখনো যেহেতু দেয়নি আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

 

 

 

 


Spread the love
এই বিভাগের আরো খবর

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: জুনায়েদ চৌধুরী জীবন

© All rights reserved © সুনামগঞ্জ প্রতিদিন
Theme Customized BY LatestNews
error: Content is protected !!