1. newsjibon@gmail.com : adminsp :
বাড়িতে আগুন: হাত পা বেঁধে বেধরক মারধর করার অভিযোগ - সুনামগঞ্জ প্রতিদিন
বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন

বাড়িতে আগুন: হাত পা বেঁধে বেধরক মারধর করার অভিযোগ

প্রতিদিন প্রতিবেদক
  • বুধবার, ২০ মার্চ, ২০২৪
  • ১৬ বার পঠিত
Spread the love

জামালগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তোতা মিয়া নামের এক লোককে হাত-পা ও মুখ বেঁধে বেধড়ক মারধর করে বাড়ির পাশের জমিতে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে মমিন মিয়া ও তার আপন ভাতিজা জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে। সোমবার দিবাগত রাত ১২ টার দিকে উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের কামিনীপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী তোতা মিয়া মনফর আলীর ছেলে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী তোতা মিয়া জানান, দীর্ঘ দিন যাবত তোতা মিয়ার বসত বাড়ির ভিটা নিয়ে ঝামেলা চলছে একই গ্রামের মমিন মিয়ার সাথে। তারই জের ধরে সোমবার রাত ১২ টার দিকে তোতা মিয়ার বসত বাড়িতে এসে একটু বাহিরে বের হতে বলেন অভিযুক্ত মমিন মিয়ার ভাতিজা ২নং ওয়ার্ড সদস্য সেলিম মিয়া। মেম্বারের ডাক শুনে তোতা মিয়া বাহিরে বের হলে সেখানে মমিন মিয়াসহ তার একাধিক ভাতিজারা উপস্থিত হয়ে গালিগালাজ ও মারধর শুরু করেন। এক পর্যায়ে গামছা দিয়ে মুখ ও রশি দিয়ে হাত পা বেঁধে বাড়ির পাশের জমিতে ফেলে রেখে তোতা মিয়ার বসত ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। আগুনের টের পেয়ে তোতার মিয়ার স্ত্রী ও সন্তানেরা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। এসময় মুহুর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় তোতা মিয়ার টিনের বসত ঘরটি। এব্যাপারে প্রতিবেশী আসাদ উল্লাহ বলেন, রাত প্রায় ১ টার দিকে আমার আম্মা ও আব্বার কাছে শুনতে পাই তোতা মিয়ার বাড়িতে আগুন লাগছে। সাথে সাথে আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পাই তোতা মিয়ার স্ত্রী আগুন আগুন করে চিৎকার ও চেচামেচি করছে। আমরা আগুন নেভানোর মুহূর্তে তোতা মিয়ার স্ত্রী দেখতে পান বাড়ির পাশের ক্ষেতে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে তোতা মিয়া। পড়ে আমি নিজের হাতে তার মুখের বাঁধটি ছুটাই। প্রতিবেশী আঃ রশিদ বলেন, গভীর রাতে চিৎকারের শব্দ শুনে বের হয়ে দেখি তোতা মিয়ার ঘরে আগুন লাগছে। আগুন নেভাতে গিয়ে দেখি আরেক প্রতিবেশি নেকবরের নাতি (নাম জানা নেই) তোতা মিয়ার হাত ও পায়ের রশি ছুটাচ্ছে। আমাকে দেখে আমার হাতে রশিগুলো দিয়েছে এবং মাথা দিয়ে রক্ত ঝড়ার কারনে গামছা দিয়ে মাথাটা বেঁধে দিচ্ছে। এসময় আমি তোতা মিয়াকে এই অবস্থা কে করেছে জিজ্ঞেস করলে সে বলে মমিন মিয়া ও তার চাচাতো ভাই সেলিম মেম্বারসহ তাদের সকল ছেলে ও ভাতিজারা এই অবস্থা করে নদীর পাড় দিয়ে তাদের বাড়িতে চলে গেছে। এব্যাপারে ভুক্তভোগী তোতা মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি ফোনে জানান, আমি চিকিৎসার জন্য এখন সিলেটে আছি। আমার বসত বাড়ির জায়গা নিয়ে মমিন মিয়ার সাথে গত কয়েকমাস যাবত ঝামেলা চলছে। এই গ্রামে আমার কোনো আত্মীয় স্বজন না থাকাতে আমি অসহায় হয়ে সেলিম মেম্বারের পেছন বিচার প্রার্থী হয়ে দীর্ঘ ৩ মাস যাবত ঘুরতেছি। সোমবার দিনগত রাত ১২ টার দিকে সেলিম মেম্বার আমাকে ডেকে ঘরের বাইরে আসতে বলে। আমি বাইরে গেলে সেখানে উপস্থিত থাকা তার চাচা মমিন মিয়া ও তার ছেলে এবং ভাতিজারা উপস্থিত হয়ে আমাকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আমার মাথায় আঘাত করে, মুখে গামছা ও রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ক্ষেতে ফেলে গিয়ে আমার বসত ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। অভিযুক্ত মমিন মিয়ার ফোনে কল করলে তার ছেলে জানান, তার বাবা এই মুহুর্তে ঘরে নেই। তবে তোতা মিয়ার সাথে বসত ভিটা নিয়ে ঝামেলা আছে। পুলিশ বলেছে কোর্ট থেকে তোতা মিয়ার ঘর তোলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আনার আগ পর্যন্ত তোতা মিয়ার সাথে যেন ঝামেলা না করি। তাই আমরা ঝামেলা করিনি। তার বাবা ও তাদের উপর আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা। ইউপি সদস্য সেলিম মিয়াকে ফোন করলে তিনি জানান, আমি বা আমার চাচা মমিন মিয়া কোনো মারামারি করিনি। তোতা মিয়ার বাড়িতে আগুনও লাগাইনি। তবে তোতা মিয়ার সাথে বসত ভিটা নিয়ে একটা ঝামেলা আছে আমার চাচা মমিন মিয়ার। আপনারা গ্রামে গিয়ে দেখুন আমার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলবে না। জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলীপ কুমার দাস বলেন, এ ব্যাপারে এখনো কোনো অভিযোগ আমার হাতে এসে পোঁছেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


Spread the love
এই বিভাগের আরো খবর

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: জুনায়েদ চৌধুরী জীবন

© All rights reserved © সুনামগঞ্জ প্রতিদিন
Theme Customized BY LatestNews
error: Content is protected !!