1. newsjibon@gmail.com : adminsp :
পুরুষের ছদ্মবেশে মুচির কাজ করেন দিপালি - সুনামগঞ্জ প্রতিদিন
মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন

পুরুষের ছদ্মবেশে মুচির কাজ করেন দিপালি

মোশাহিদ আহমদ, দিরাই প্রতিনিধি
  • বুধবার, ৫ জুন, ২০২৪
  • ৬ বার পঠিত
Spread the love

দিরাইয়ে জীবনের তাগিদে এক নারী ৪ বছর ধরে পুরুষের ছদ্মবেশে মুচির কাজ করছেন। ওই নারীর নাম দিপালি রানী রবিদাশ। তার বয়স ৩৫বছর। তিনি দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের ছাদিরপুর গ্রামের মাখন রবিদাশের মেয়ে। দিপালির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাত্র ১৮বছর বয়সে বিয়ের ৬মাসের মাথায় স্বামীকে হারান তিনি। এরপর ঠাঁই মিলে পিত্রালয়ে। দিপালিরা ৬ বোন। সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তাদের বৃদ্ধ পিতা রোগে কাবু হয়ে শয্যাসায়ী। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটতো দিপালিদের। স্বামীর মৃত্যুর পর অনেক কটু কথা শুনতে হয়েছিল দিপালিকে। সংসারে ভরণ-পোষণ চালিয়ে যেতে দিপালি তার পিতার পেশা মুচির কাজ করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বাবার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্থানীয় টানাখালী (রজনীগঞ্জ) বাজারে ফুটপাতে বসে কাজ শুরু করেন। কিছুদিন নারী রুপেই হাটে কাজ করেছেন। নারীর বেশে মুচির কাজ করতে দেখে অনেকেই হাসাহাসি করতো। তবে এসবে দমে যাননি দিপালি। কাজটা টিকিয়ে রাখতেই পুরুষের রুপ ধারণ করেন। বড় চুলগুলো কেটে সালোয়ার কামিজের পরিবর্তে শার্ট-প্যান্ট পরিধান করে পুরোদস্তুর পুরুষ সেজে কাজ করতে থাকেন অদম্য দিপালি। বাড়ির বাইরে সবাই জানে তিনি পুরুষ। পরিবারের লোকজন, আত্মীয়রা এবং বাইরের দু’চারজন ছাড়া আর কেউই জানেন না, তিনি আসলে একজন নারী। দিপালি জানিয়েছেন, সংসার চালানোর জন্য মুচির কাজের পাশাপাশি খেয়া নৌকায় যাত্রী পাড়াপাড়ের কাজও করেছেন। অনেকেই জানে দিপালি ছেলে। আর এ পরিচয়েই থাকতে চান। এ সত্ত্বাই তাকে জীবন দিয়েছে বলে মানেন তিনি। দিপালি বলেন, আমরা ছয় বোন। ভাই নেই। ঘরে আমার বৃদ্ধ বাবা রোগে শয্যাসায়ী। উপার্জন করার মতো পরিবারে কোন লোক নেই। বাধ্য হয়ে আমি কাজ শুরু করি। আমার বাবাও এ কাজটি করতেন। তার কাছ থেকেই শিক্ষা নিয়েছি। কাজ করে যা রোজগার হয়, তা দিয়ে সংসার চলে না। ঘরে বিবাহযোগ্য ছোটবোন রয়েছে। টাকার অভাবে বিয়ে দিতে পারছি না। বাবা-মায়ের চিকিৎসা করাতে পারি না। তিনি বলেন, কাজ করতে গিয়েও বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। জুতো সেলাইয়ের কাজটাতো আর বাড়িতে বসে করা যায় না। হাটে যেতে হয়। তখন আমি মেয়ের বেশে ছিলাম। আমার চুল লম্বা ছিল। মেয়েদের পোশাক পড়তাম। মেয়ের বেশে বাজারে এসে কিছুদিন কাজ করি। অনেক লোক খারাপ দৃষ্টি দিতো। অনেকে হাসাহাসি করতো। সব জায়গায় বসতে দিতো না। আজকে এখানে তো কালকে ওইখানে। একেকদিন একেক জায়গার ফুটপাতে বসতে হতো। এসব ভেবে রাতে বিছানায় চোখের জল ফেলতাম। এরপর কাজটা চালিয়ে যেতে চুল কেটে পোশাক পাল্টে পুরুষের রুপ ধারণ করি। আমার কষ্ট দেখে টানাখালী বাজারের মইনুল ভাই, সমীরন দাদা আমাকে তাদের দোকানের সামনে বসতে দেন। আমার বিপদে-আপদে তারা সাহায্য করে থাকেন। দিপালির স্বপ্ন কিছু একটা করে স্বাবলম্বী হওয়ার। সংসারে অভাব ঘোচাতে যে কোনো কাজ করতে প্রস্তুত তিনি। তবে পুঁজি না থাকায় সেটা পারছেন না। এজন্য তিনি সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন। দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুর রহমান খোন্দকার বলেন, দিপালি রানী রবিদাশ, যিনি মেয়ে হয়েও পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য ছেলের বেশ ধারণ করে কাজ করছেন। এ বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। এ রকম দরিদ্র যারা আছেন তাদেরকে সরকারিভাবে বিভিন্ন সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে খোঁজ খবর নিয়ে দিপালি রানী রবিদাশকেও আমরা পুর্নবাসনের আওতায় নিয়ে আসবো।


Spread the love
এই বিভাগের আরো খবর

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: জুনায়েদ চৌধুরী জীবন

© All rights reserved © সুনামগঞ্জ প্রতিদিন
Theme Customized BY LatestNews
error: Content is protected !!