1. newsjibon@gmail.com : adminsp :
দিরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জিম্মি করে কোচিং বানিজ্য - সুনামগঞ্জ প্রতিদিন
শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন

দিরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জিম্মি করে কোচিং বানিজ্য

  • বুধবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৩
  • ৮০ বার পঠিত
Spread the love

মোশাহিদ আহমদ, দিরাই : সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রজনীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে এবং মকসদপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া এ দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিংয়ের নামে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। কোচিং ফি না দিলে ফরম পূরণ করতে দেয়া হচ্ছে না। এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় একাধিক অভিভাবক। অনেক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে ও রশিদ দেখে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্কুলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে নিতেই কৌশলে এ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের। জানা যায়, এ বছর এসএসসির ফরম পূরণে কেন্দ্র ফিসহ বোর্ড নির্ধারিত ফি হচ্ছে- মানবিক ও ব্যবসায় শাখায় ২ হাজার ২০ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগে ২ হাজার ১৪০ টাকা। সরকারি এ নির্দেশনা উপেক্ষা করে মকসুদপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ফরম পূরণ ফি ২ হাজার ৫০০ টাকা ও কোচিং ফি ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং রজনীগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে ফরম পূরণ বাবদ ২ হাজার ৪০০ টাকা ও কোচিং ফি আরও ১ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। দুই স্কুলের একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, কোচিং ফি বাধ্যতামূলক দিতে হচ্ছে। অন্যথায় ফরম পূরণ করতে দেয়া হচ্ছে না। অনেক পরীক্ষার্থী কোচিংয়ে অনাগ্রহ দেখালেও কোচিং ফির টাকা বাধ্যতামূলক পরিশোধ করার জন্য বিদ্যালয় থেকে বলা হচ্ছে। কোচিংয়ের টাকা না দিলে ফরম পূরণ করতে দেয়া হচ্ছে না। বাধ্যতামূলক কোচিং ফি আদায়ের বিষয়টি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি সভার মাধ্যমে নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন ওই স্কুলগুলোর প্রধান শিক্ষকরা। মকসুদপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক নারী অভিভাবক বলেন, স্কুলের নির্ধারিত ২৫শ টাকা নিয়ে আমার সন্তানের ফরম ফিলাপ করতে যাই। কিন্তু হেড মাস্টার কোচিংয়ের দেড়হাজার টাকা না দিলে ফরম ফিলাপ করা যাবে না বলে জানান। আমার এতো টাকা দেবার সামর্থ্য নাই জানিয়ে কোচিংয়ের টাকা পরে দিব বলেছি। তাকে কাকুতি-মিনতি করেছি। কাজের কাজ হয়নি। পরে আমার শখের হাঁস, মোরগ বিক্রি করে কোচিংয়ের টাকা দিয়ে ফরম ফিলাপ করিয়েছি। রজনীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক বলেন, স্কুলে কোচিং ফি বাধ্যমূলক দিতে হচ্ছে। এতে করে আমি চাইলেও আমার এসএসসি পরীক্ষার্থী সন্তানকে ভালো শিক্ষক দ্বারা কোচিং করাতে পারব না। কারণ দুই জায়গায় টাকা দিয়ে কোচিং করানোর সামর্থ্য আমার নাই। মকসুদপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফুর রহমান বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা রজনীগঞ্জ স্কুলের অধীনে পরীক্ষা দিয়ে থাকে। তাদের নির্দেশনামতে আমরা ফরম ফিলাপ বাবদ ২৪শ টাকা নিচ্ছি। এর বাইরে কোচিং ফি বাবদ আরও ১৬শ টাকা নেয়া হয়েছে। ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে রেজাল্ট ভালো করতেই আমরা কোচিং ফি বাধ্যতামূলক নিতেছি। রজনীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের ব্যয়ভার সংকুলান হয় না। এজন্যই আমরা কিছু বাড়তি টাকা নিতেছি। এছাড়াও বাধ্যতামূলক কোচিং ফি নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আজিজার রহমান বলেন, কোচিং ফি হিসেবে কোন টাকা নেয়া যাবে না। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


Spread the love
এই বিভাগের আরো খবর

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: জুনায়েদ চৌধুরী জীবন

© All rights reserved © সুনামগঞ্জ প্রতিদিন
Theme Customized BY LatestNews
error: Content is protected !!