1. newsjibon@gmail.com : adminsp :
টাংগুয়ার হাওরের নজরখালি বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে স্বেচ্ছাশ্রমে - সুনামগঞ্জ প্রতিদিন
শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৪১ অপরাহ্ন

টাংগুয়ার হাওরের নজরখালি বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে স্বেচ্ছাশ্রমে

প্রতিদিন প্রতিবেদক
  • বুধবার, ৬ মার্চ, ২০২৪
  • ২৮ বার পঠিত
Spread the love

টাংগুয়ার হাওরে নজরখালি বাঁধ সরকারি অনুদান ছাড়াই হাওরপাড়ের ৮১টি গ্রামের কৃষকগণ স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ কাজ চালাচ্ছেন। জানা যায়, জেলার মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলায় বিস্তৃত টাংগুয়ার হাওরের নজরখালিতে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ নিয়ে প্রতিবছরই দ্বিধায় থাকে পানি উন্নয়ন বোর্ড। হাওরটি ‘পরিবেশগত সংকটাপন্ন’ এলাকা হওয়ায় এখানে বাঁধ দেওয়া বা জলপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ২০২২ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড হাওর পাড়ের আপামর জনসাধারণ ও কৃষকের দাবির প্রেক্ষিতে সরকারি টাকায় বাঁধ দেয়। ২০২২ সালে ভয়াবহ বন্যায় নজরখালি বাঁধটি ভেঙে হাওরের বিপুল পরিমাণ ফসল অকালে তালিয়ে যায়। টাংগুয়ার হাওরের নজরখালি ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ হলে ৮১ টি গ্রামের কৃষকের ১০ হাজারের হেক্টরের বেশি জমিতে লাগানো বোরো ফসল রক্ষা হবে জানান স্থানীয় কৃষকরা। তাই গ্রামবাসীদের উদ্যোগে বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করলেও সরকারি সহায়তা চান কৃষকরা। কারণ হিসেবে কৃষকরা বলছেন, বর্তমানে ৫-৬ লক্ষ টাকার নিজস্ব বাজেট থাকলেও টেকসই বাঁধ করতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন এবং প্রতি বছর সরকারি উদ্যোগেই এখানে বাঁধ নির্মাণ করার দাবি জানান তারা। এ ব্যাপারে হোসেনপুর গ্রামের কৃষক কুদ্দুস মিয়া বলেন, বুধবার থেকে আমাদের ৮১টি গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় এখানে বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। আমরা প্রতিবছরই এখানে বাঁধ দেয়ার দাবি জানাই। এখানে আমাদের একমাত্র বোরো ফসল লাগানো হয়। এটি আমাদের জীবিকার উৎস। এবারও সরকার থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে বাঁধ না দেয়ার সিদ্ধান্ত করে। কিন্তু আমাদের প্রায় ১০ হাজার হেক্টরের বেশি জমি রয়েছে। সেই জমির ফসলগুলো যদি তলিয়ে যায় তাহলে আমাদের পথে বসতে হবে। সেজন্য সবাই মিলে নিজেদের অর্থায়নে ও স্বেচ্ছাশ্রমে এখানে বাঁধের কাজ শুরু করেছি। রংচি গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই বলেন, এখানে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন কারণ আমাদের নিজেদের শ্রম দিয়েও এখানে আরও ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। অনেক মাটি আনতে হবে। অনেক কাজ করতে হবে। এখানে যদি সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যায়, তা আমাদের জন্য খুব ভালো হবে। টাংগুয়ার হাওরের নজরখালিতে বাঁধ দেয়াটা হাওরের পরিবেশগত সমস্যা জানিয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, সুনামগঞ্জ জেলায় ভারী বর্ষণ শুরু হলে যাদুকাটাসহ বিভিন্ন নদীর পানির চাপ পড়ে নজরখালিসহ আরো কয়েকটি পয়েন্টে। ঢলের প্রবল ¯্রােত নজরখালি দিয়ে বিশাল টাংগুয়ার হাওরে প্রবেশ করলে আশপাশের হাওরগুলো অনেক ঝুঁকিমুক্ত থাকে। আর ঢলে বাধা পেলে গুরমা, মাটিয়াইনসহ অন্যান্য হাওর রক্ষা বাঁধ বিপন্ন হয়ে উঠে। এতে বেশি ফসলহানির আশঙ্কা থাকে। সেজন্য এখানে বাঁধ দেওয়াটা জরুরি বললেও আমরা এখানে বাঁধ দিতে পারি না। একবার তাহিরপুরের ইউএনও সাহেবের অনুরোধে সেখানে বাঁধ দেওয়া হয়েছিলো। সেসময় প্রচুর ফসলের ক্ষতি হয়েছিলো। এর আগে ও পরে এখানে পাউবো কখনো বাঁধ দেয়নি। এখানে বাঁধ করতে পরিবেশগত সমস্যা আছে।


Spread the love
এই বিভাগের আরো খবর

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: জুনায়েদ চৌধুরী জীবন

© All rights reserved © সুনামগঞ্জ প্রতিদিন
Theme Customized BY LatestNews
error: Content is protected !!