শিরোনাম
  জামালগঞ্জে বিএনপি নেতা এমদাদুল হক আফিন্দীর নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ :       জামালগঞ্জে হাওরে মাছের আকাল, চাষের মাছই ভরসা       ছাতক পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে আদালতে মামলা       দিরাইয়ে মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজে ধীরগতি       আজ পহেলা সেপ্টেম্বর রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস       খানাখন্দে ভরা জামালগঞ্জ কারেন্টের বাজার সড়ক,ভোগান্তি অর্ধলক্ষ মানুষের       শ্রীরামসী গণহত্যা দিবস পালিত       এক হাজার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার প্রদান করলেন মুকুট       তাহিরপুরে শহীদ সিরাজের সমাধিতে এমপি সহ নেতাকর্মীদের দোয়া       সুনামগঞ্জের সম্ভাবনাময় পর্যটন নিয়ে সরকার ব্যাপক আন্তরিক পর্যটন সচিব    


বিশেষ প্রতিনিধি
ভিলেজ টাউন সুনামগঞ্জ মহকুমা সদর বরাবরই কমিউনিস্ট রাজনীতির ঘাটি ছিল। মুসলিম লীগ নেতা মনোহর আলীর পর তার ভাতিজা মাহমুদ আলীর হাত ধরে কমিউনিস্ট কেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংগঠন গণতন্ত্রী দল গড়ে উঠলে এ দলটি সুনামগঞ্জের মাটিতে একসময় একক রাজনৈতিক দল হিসেবে তার মজবুত ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করে। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে এ দলেরই প্রার্থী হন সাবেক মন্ত্রী মাহমুদ আলী ও আব্দুস সামাদ আজাদ। সে সময় যুক্তফ্রন্টের শরীক দলের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জয়লাভ করলেও তাদের দুর্দন্ড দাপটে সুনামগঞ্জে আওয়ামীলীগের ঠাই হয়নি। ১৯৫৬ সালে সুনামগঞ্জে দুর্নীতি দমন মন্ত্রী হিসেবে সরকারী সফরে এসে পাকিস্তানের সোহরাওয়ার্দি সরকারের দুর্নীতি দমন মন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম এ মাটিতে আওয়ামীলীগের রাজনীতির গোড়াপত্তন করেন। ঐ সময় দেওয়ান আনোয়ার রাজা চৌধুরীকে সভাপতি,আব্দুল হেকিম চৌধুরী ও দেওয়ান ওবায়দুর রেজা চৌধুরী সহ-সভাপতি,একাধারে ভাষা আন্দোলনের নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মুহাম্মদ আব্দুল হাই কে সাধারন সম্পাদক,আকমল আলী মোক্তার যুগ্ম সম্পাদক গুলজার আহমদ মতান্তরে যোগেন্দ্র শর্মা কে সাংগঠনিক সম্পাদক, আব্দুল আহাদ চৌধুরী তারা মিয়া,মতছিন মিয়া,আবু মিয়া,গোলাম কাদির,যোগেন্দ্র শর্মা,বিষ্ণুপদ রায়,হারুন মিয়া,তৈফুর মিয়া,আকল মিয়া ও আব্দুল অদুদ পাটান কে সদস্য করে মহকুমা আওয়ামীলীগের প্রথম কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়। শুরুতে শহরের ২২টি পরিবারের হাত ধরে আওয়ামীলীগ সংগঠিত হলেও এই কমিটি ৫৮ সালের সামরিক শাসনের পূর্ব পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। খলিলুর রহমান চৌধুরী,আছদ্দর আলী চৌধুরী, আব্দুল বারী ,সৈয়দ দিলওয়ার হোসেন,আছদ্দর আলী চৌধুরী লাল মিয়া ৫৮ সালের পূর্ব থেকেই আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত ছিলেন। ৬৯ এর পরে যোগদান করেন সাবেক মন্ত্রী অক্ষয় কুমার দাশ,যুক্তফ্রন্টের এমপি আব্দুস সামাদ আজাদ,আব্দুজ জহুর,আব্দুর রইছ,হোসেন বখত ও আব্দুল অদুদ আপ্তির মিয়া প্রমুখ। তাদের যোগদানে আওয়ামীলীগ একটি শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হয়।
৭০ এর নির্বাচনকে সামনে রেখে মহকুমা ছাত্রলীগের মজবুত ঘাটি প্রতিষ্ঠা করেন ছাত্রলীগ নেতা সুজাত আহমদ চৌধুরী,মুজিবুর রহমান চৌধুরী,শহীদ তালেব হোসেন,নুরুজ্জামান চৌধুরী শাহী,সামসুল ইসলাম এখলাছ ও আমির হোসেন রেজাসহ আরো অনেকে। কিন্তু ৭০ এর নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন চুড়ান্ত করাকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জ আওয়ামীলীগে সর্বপ্রথম ভাঙ্গন শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি দেওয়ান আনোয়ার রাজা চৌধুরী কুড়েঘর প্রতীকে নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করে পরাজিত হন। আব্দুল অদুদ পাঠান স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ১৯৭৩ সালে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে দল থেকে বহিস্কৃত হন দেওয়ান ওবায়দুর রেজা চৌধুরী। তার পক্ষে নির্বাচন করতে গিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান কার্যকরী কমিটির একজন এডভোকেট সহ-সভাপতিসহ আরো অনেককেই বহিস্কৃত হতে হয়। ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে মুজিবুর রহমান চৌধুরী জাসদে,সুজাত আহমদ চৌধুরী জনতা পার্টিতে যোগদান করেন। ৭৫ এর পূর্ববর্তী সময় পর্যন্ত আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে ভূমিকা পালন করেন আওয়ামীলীগ নেতা মুহাম্মদ আব্দুল হাই,আকমল আলী মোক্তার,
আব্দুর রইছ,আব্দুজ জহুর,খলিলুর রহমান চৌধুরী,আছদ্দর আলী চৌধুরী লাল মিয়া,আব্দুল বারী, গোলাম কাদের, সৈয়দ দিলওয়ার হোসেন,আব্দুল হাই এর ভাতিজা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ চৌধুরী মুসনুদ,মারুফ চৌধুরী,নুরুজ্জামান চৌধুরী শাহীসহ মুষ্টিমেয় কয়েকজন নেতাকর্মী। মুশতাক সরকার ও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে এসব নেতাকর্মীদেরকে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক মামলার আসামী হয়ে কারাভোগ করতে হয়। তাদের মধ্যে কারাগারে যান আকমল আলী মোক্তার,আব্দুজ জহুর,আব্দুজ রইছ,খলিলুর রহমান,আছদ্দর আলী মোক্তার, আব্দুল আজিজ (তাহিরপুর), জালাল উদ্দিন, আমিনুল হক (বাদাঘাট), রনদা প্রাশাদ চৌধুরী (দিরাই), ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে নুরুজ্জামান চৌধুরী শাহী, শামসুল ইসলাম এখলাছ,ইমানুজ্জামান চৌধুরী মহি। এদের মধ্যে আব্দুজ জহুর, আমিনুল হক, রনদা প্রশাদ চৌধুরী, গোলাম কাদের, শামসুল ইসলাম একলাছ ও নুরুজ্জামান চৌধুরী শাহী শারীরিক নির্যাতনেরও শিকার হন। ঐ সময় আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাসভবনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে যারা গাইড করেছিল এবং নেতাকর্মীদেরকে ধরিয়ে দিয়েছিল জিয়া মুশতাক সরকারের সেসব দোসর দালালরা এবং তাদের উত্তরসুরীরাই এখন আওয়ামীলীগের হর্তাকর্তা সেজে বসে আছে। এ লজ্জা কোথায় রাখবে বঙ্গবন্ধুপ্রেমী আওয়ামীলীগাররা। ৭৫ র পরবর্তী দুর্দিনেও বিশেষ করে জিয়াউর রহমানের ঘরোয়া রাজনীতির পূর্ব পর্যন্ত অত্যাচার নির্যাতনের ষ্টিমরোলারের মধ্যেও সুনামগঞ্জে আওয়ামী রাজনীতির হাল ধরে রাখেন আকমল আলী মোক্তার,আব্দুজ জহুর,আব্দুর রইস, খলিলুর রহমান চৌধুরী, সৈয়দ দিলওয়ার হোসেন,আব্দুল আহাদ চৌধুরী,আপ্তির মিয়া,সুখরঞ্জন রায়,ডিলার জগদীশ রায়,ছাত্রনেতাদের মধ্যে নুরুজ্জামান শাহী,শামসুল ইসলাম এখলাছ,মারুফ চৌধুরী,আমির হোসেন রেজা,প্রদীপ রায়,আব্দুল আজিজ,আমান উল্লাহ,সামাল মিয়া,ইমানুজ্জামান মহী ও শাহীন বাঙ্গালী। ঘরোয়া রাজনীতির সুযোগে ৭৮-৭৯ সালে অনেক আওয়ামী বিরোধীরা, আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনে ঢুকে যায়। ৮৬ সালে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের শাসনামলেও এরুপ ঘোর আওয়ামী বিরোধীরা আওয়ামীলীগে প্রবেশ করে এবং ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের পর আওয়ামী বিরোধী অনুপ্রবেশকারীরা ষোলকলা পূর্ণ করে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে। যা বর্তমানেও চলমান রয়েছে। এসব অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে দলীয় পদক্ষেপ গ্রহন অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে। মুলধারার যেসব নেতাকর্মীরা ভোগবাদের বিরুদ্ধে ত্যাগের রাজনীতিতে নিবেদিত ছিলেন,জেল জুলুম হুলিয়াকে অম্লান বদনে আলিঙ্গন করেও নীতি এবং আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি আজ তাদের উত্তরসুরীরা আওয়ামী রাজনীতিতে কোন উল্লেখযোগ্য পদে নেই বললেই চলে। অন্যদিকে ৭১ এর রাজাকার,৭৫ সালের ষড়যন্ত্রকারী পরবর্তীতে ছাত্র ইউনিয়ন, জাসদ, বাসদ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপি থেকে আগত দলছুট অনুপ্রবেশকারী ও বহিস্কৃতদের অবাঞ্চিত অপতৎপরতার মুখে মূলধারার আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা আজ কোনঠাসায়। মূলধারার আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে কেবলমাত্র আব্দুর রইছ ও খলিলুর রহমানের উত্তরাধিকারীরা দলে মূল্যায়ন পেলেও মূলধারার বাকী নেতাকর্মীদের সুযোগ্য উত্তরসুরীরা,অনুপ্রবেশকারীদের অপতৎপরতার মুখে উপেক্ষিতই থেকে যায়।




১৮ কিলোমিটার ফ্লাইওভার নির্মাণ করে সুনামগঞ্জের সাথে ধর্মপাশার যোগাযোগ স্থাপন করা হবে : পরিকল্পনা মন্ত্রী

তাহিরপুরের সাবেক এমপি কালিচরন মুচির পরিবারে এখনও টিকে আছে নাগরী ভাষা

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রতিবাদ-বিক্ষোভ

আমলাদের ‘পাছায় লাথি’ ফর্মুলায় দুঃস্থ তালিকা

গরু চুরির প্রতিবাদ করতে গিয়ে জামালগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষ। আহত ৪।

আওয়ামীলীগের ৬ইউনিটের সম্মেলন প্রস্ততি কমিটি দলকে গতিশীল করতে করা হয়েছে

২০ ফেব্রুয়ারি পরিকল্পনা মন্ত্রীর দিরাই সফর নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত আ.লীগ,দেখানো হতে পারে কালো পতাকা

সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের প্রধান সহকারী ইকবাল ও তার স্ত্রীর সম্পদের উৎস কোথায় ?

সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ পুনর্মিলনী : সদস্যসচিব এর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের

এমপিরা অতঃপর ‘স্যার’ বলবেন ডিসিদের !!

error: Content is protected !!