শিরোনাম
  জামালগঞ্জে বিএনপি নেতা এমদাদুল হক আফিন্দীর নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ :       জামালগঞ্জে হাওরে মাছের আকাল, চাষের মাছই ভরসা       ছাতক পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে আদালতে মামলা       দিরাইয়ে মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজে ধীরগতি       আজ পহেলা সেপ্টেম্বর রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস       খানাখন্দে ভরা জামালগঞ্জ কারেন্টের বাজার সড়ক,ভোগান্তি অর্ধলক্ষ মানুষের       শ্রীরামসী গণহত্যা দিবস পালিত       এক হাজার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার প্রদান করলেন মুকুট       তাহিরপুরে শহীদ সিরাজের সমাধিতে এমপি সহ নেতাকর্মীদের দোয়া       সুনামগঞ্জের সম্ভাবনাময় পর্যটন নিয়ে সরকার ব্যাপক আন্তরিক পর্যটন সচিব    



বিশেষ প্রতিবেদক : সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের প্রধান সহকারী ইকবাল হোসেন ও তার স্ত্রী রেহানার বিরুদ্ধে একাত্তরের কথা নামক একটি আঞ্চলিক পত্রিকার অনলাইন ওয়েবপোর্টালে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার ঘটনায় সারা জেলা সদরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের শুরু হয়েছে। সংবাদটিতে উল্লেখ করা হয়,দুর্নীতিতে নিমজ্জিত আড়াইশ শয্যার এই হাসপাতালে রোগীরা যেমনই থাকুন না কেনো ভালো আছেন হাসপাতালের অনেক কর্মকর্তা কর্মচারী। রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছেন তাদের কেউ কেউ। তাদের জন্য হাসপাতালটি যেনো জাদুর বাক্স। ছু-মন্তর-ছু’তে বদলে গেছে তাদের জীবন। বলতে গেলে দুর্নীতিবাজদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল।

পদে ছোট হলেও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের দুর্নীতির রাজ্যের রাজার আসনটি দখল করে আছেন হাসপাতালের প্রধান অফিস সহকারী মো. ইকবাল হোসেন। রাজ্যে রাজা থাকবে অথচ রাণী থাকবে না, তা তো হয় না। দুর্নীতির এই স্বর্গরাজে রাণীর আসনটি নিয়ম মেনেই বুঝে পেয়েছেন ইকবাল হোসেনের সহধর্মিনী, হাসপাতালেরই হিসাবরক্ষক রেহেনা আক্তার। হাসপাতালেও তাদের আড়ালে রাজা-রাণী নামেই ডাকা হয়। ইকবাল ও রেহেনার নিয়ন্ত্রণেই বর্তমানে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চলছে অনিয়ম ও দুর্নীতি। চলছে সরকারি সম্পদের হরিলুট। এই রাজা-রাণীর রাজত্বে রোগী ও সাধারণ কর্মচারীরা কেবল সাধারণ প্রজামাত্র। হাসপাতালের দুর্নীতি নিয়ে মুখ খোলার সাহস নেই কারো। কারণ, অলিখিতভাবে হাসপাতালের কর্তৃত্ব ও স্বত্ব অপদখল করে আছেন ইকবাল হোসেন ও তার স্ত্রী রেহেনা আক্তার। মুখ খুললেই বিপদ! অবৈধপন্থায় অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়ে ইতিমধ্যে সুনামগঞ্জের প্রভাবশালীদের খাতায় নাম লিখিয়ে নিয়েছেন এই দম্পতি। ‘নিচের তলা’য় বাস হলেও ‘ওপরতলা’কে তারা সেই প্রভাব আর অর্থে বশ করে নিয়েছেন। এত অভিযোগের পরও তাই রাজা-রাণী রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে শুরু করে হাসপাতালের উপর মহলের সাথে সু-সম্পর্ক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

অভিযোগের অন্ত নেই সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের প্রধান অফিস সহকারী মো. ইকবাল হোসেন এবং তার স্ত্রী হিসাবরক্ষক রেহেনা আক্তারের বিরুদ্ধে। হাসপাতালের এমন কোনো খাত নেই, যেখানে ইকবাল রেহানার দুর্নীতির ছাপ পড়েনি। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে বাঁচতে ইকবাল হোসেন তার সকল সম্পত্তি লিখে দিয়েছেন স্ত্রী রেহেনা আক্তারের নামে। জানা গেছে, মেডিকেল সার্টিফিকেট, পোস্টমর্টেম, ভিকটিম সার্টিফিকেট, নার্সদের বদলি সব কিছুতেই ঘুষ দিতে হয় হাসপাতালের প্রধান অফিস সহকারী ইকবাল হোসেনকে। কেউ ঘুষ না দিলে তিনি কাগজ ছাড়বেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনই বেশিরভাগ সময় অফিস করেন না। ইকবাল হোসেনের স্ত্রী রেহেনা সকালে অফিসে এসে উপস্থিত খাতায় নাম লিখিয়ে চলে যান বাড়িতে এবং স্বামী ইকবাল হোসেন অফিসে এলেও ঘড়িতে ১২টা বাজার আগেই চলে যান। প্রধান সহকারী হওয়ায় স্বামী-স্ত্রীর উপস্থিতি রয়েছে খাতা কলমে শতভাগ, কিন্তু বাস্তবে ভিন্ন।

ইকবাল হোসেন ও তার স্ত্রী রেহেনা বেগমের সম্পত্তির তথ্য অনুসন্ধান করলে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ সদর সাব রেজিষ্ট্রারি অফিসে একটি দানপত্র করেন। যার দলিল নম্বর ৫০৭৪। ইকবাল হোসেন সেই দলিলের মাধ্যমে সুলতানপুর গ্রামে ০.২২ একর বোরো জমি, ০.৩২ একর বাড়ীর রকম ভূমি, মোহনমুকুন্দ মৌজায় ১.৩৪ একর বোর রকম ভূমিসহ ২ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার টাকার সম্পত্তি স্ত্রীর নামে লিখে দেন। ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি মোহনমুকুন্দ মৌজায় ও গ্রামে ০.১৫৮৪ একর বাড়ী রকম ভূমি ও রসুলপুর মৌজায় ০.২৩৩৪ একর আমন রকম ভূমিসহ ৪১ লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্পত্তি আবারো স্ত্রী রেহেনা বেগমের নামে লিখে দেন ইকবাল। যার দলিল নং-২৭৬। রেহেনা বেগম ২০১৭ সালের ৯ মার্চ ০.০০৮০ একর বাড়ি রকমে ভূমি কিনেন। যার মূল্য ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা। ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি ২ লাখ ১৮ হাজার টাকা মূল্যে সুলতানপুর গ্রামে ০.০০০৫৭ একর জমি কিনেন। তাছাড়া রেহেনা বেগম তার আপন ভাই বিদেশ থাকায় তার সকল সম্পত্তিও ডিক্লারেশন অব হেবা দলিলের মাধ্যমে নিজের করে নিয়েছেন। যার সম্পত্তির মূল্যের পরিমাণ ৩৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এতে করে তিনি আরো একুশ শতক বাড়ি রকম ভূমির মালিক হয়ে যান। অন্যদিকে অফিস সহকারী ইকবালের ক্ষমতার জোর অনেক। তিনি হাসপাতালের সামনে ছেলের নামে তৈরি করেছেন আল রাফি টাওয়ার। দুই-তলা বিশিষ্ট এ মার্কেট হাসপাতালের সামনে হলেও প্রভাব থাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো সময় অনুসন্ধানে নামেনি স্বাস্থ্য বিভাগ। হাসননগর এলাকায় সুলতানপুর গ্রামে সুরভী আবাসিক এলাকায় এ দম্পতির রয়েছে দুই-তলা বিশিষ্ট বিশাল বাড়ি, হাসন নগর মাদ্রাসা পয়েন্ট এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারও রয়েছে তাদের। পৌর শহরের বাইরে হাছনবাহার এলাকা ৪২০ শতক জায়গার উপর ২টি বিশাল মৎস্য খামার এর মালিকও অফিস সহকারী ইকবাল হোসেন এবং সুনামগঞ্জ পুরাতন শিল্পকলার পাশে রয়েছে একটি দোকান। তাছাড়া সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে শ্যালকের মালিকানাধীন দীনা এন্টারপ্রাইজের নামে দীর্ঘদিন ধরে ষ্টেশনারী সরবরাহের অভিযোগ আছে তার উপর। তাছাড়া হাসাপাতালের পুরোনো জিনিসপত্র নিলামে না তুলে খুব অল্পমূল্যে নিজের আত্মীয় কাছে বিক্রি করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ইকবাল হোসেনের উপর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইকবাল হোসেন সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের প্রধান অফিস সহকারী হওয়ায় সবকিছুতে প্রয়োজন পরে তার। বেতন থেকে শুরু করে নার্সদের বদলিতেও নেন টাকা। নার্সদের বদলির ছাড়পত্র দিতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন তিনি। তাছাড়া ইকবাল হোসেনের চরিত্রতেও রয়েছে কালো দাগ। হাসপাতাল এলাকায় গল্প শোনা যায়, কয়েক বছর আগে এক নার্সের সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। রেহেনা বেগম বিষয়টি জেনে গেলে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আরএমও এর রুমের সামনে পায়ের জুতা খুলে স্বামী ইকবাল হোসেনকে পিটিয়েছিলেন। অন্যদিকে ইকবাল হোসেনের স্ত্রী রেহেনা বেগমের বিষয়ে খোজ নিলে জানা যায়, রেহেনা বেগমের চাকরি হয় জগন্নাথপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সহকারী কর্মী হিসেবে। পরবর্তীতে জগন্নাথপুর উপজেলা থেকে প্রেষণে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে বদলি করে নিয়ে আসেন। যা চাকরির গ্রেডের মধ্যে পরে না। রেহেনা বেগম সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত কোন দিনই অফিস করেননি। সুলতানপুর এলাকার বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা হলে তারা জানান, ইকবাল হোসেনের বাবা মৃত ইস্কান্দর আলী পেশায় ছিলেন আইনজীবীর সহকারী। একটি টিন-শেডের ঘর ও ১২০ শতক ফসলি জমি। ১৯৮৪ সালে অফিস সহকারী হওয়ার পর থেকে ইকবাল হোসেনকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি। একবার ইকবাল হোসেনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে বদলি করা হলে। তিনি তখন বদলির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন এবং তার বদলি আদেশ বাতিল করান। তার দুই-তলা বিশিষ্ট যে বাস ভবন রয়েছেন সেই রুমে রয়েছে দামি দামি জিনিসপত্র। তাছাড়া তার ঘুমানোর খাট রয়েছে তার মূল্যই ১ লাখ টাকা। এ

ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী নেতা মুজাহিদুল ইসলাম মজনু বলেন, ইকবাল হোসেন সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের সকলের জন্য একটি আতঙ্কের নাম। তিনি ও তার স্ত্রী ক্ষমতার ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। আমরা চাই দুর্নীতি দমন কমিশন ও স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করুক সব কিছুই বেরিয়ে আসবে। তিনি আরো বলেন, ইকবাল হোসেন নার্সদের বদলির জন্য যেমন টাকা খান, তেমনি শালা দুলাভাই মিলে হাসপাতালের সকল পুরোনো জিনিসপত্র স্বল্পমূল্যে ক্রয় করে বেশি দামে বিক্রি করেন। যা হাসপাতালের জন্য ক্ষতির কারণ। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের প্রধান অফিস সহকারী ইকবাল হোসেনের সাথে কথা হলে, তিনি নিয়মিত অফিস করেন না বিষয়টি স্বীকার করেন এবং প্রতিবেদককে ইকবাল হোসেনের পক্ষে অফিস করার নির্দেশনা প্রদান করেন। তাছাড়া তাকে সম্পত্তি বা অন্য বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোন কিছু বলতে বাধ্য নয় বলে ফোন রেখে দেন। পরবর্তীতে তাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

দায়িত্বে থাকা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ইকবাল হোসেন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিবো। হাসপাতালের একজন অফিস সহকারীর এমন দুর্নীতির খবর আমার জানা নেই।

সুনামগঞ্জ জেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক মোঃ এনামুজ্জামান চৌধুরী বলেন,ইকবাল আমার প্রতিবেশী। তার বাপ চাচা ভাইদের আমি ভাল করে চিনি ও জানি। আমার জানামতে তারা একেবারেই দরিদ্র হীন অবস্থায় ছিল। কিন্তু হাসপাতালের চাকুরীকে কেন্দ্র করে সে শহরে ক্লিনিক ব্যবসা,হাসপাতালের খাবার সরবরাহের ঠিকাদার নিয়োগ,চাকুরীতে নিয়োগ,মাস্টাররোল কর্মচারী নিয়োগ,চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগকৃত কর্মচারীদের কর্মস্থলে না খাটিয়ে প্রক্সি দেয়াসহ অনেক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আমি চাই দুদকের মাধ্যমে তদন্ত করে ইকবাল ও তার স্ত্রীর দুর্নীতির উৎসের অনুসন্ধান চালানো হউক। চলবে




১৮ কিলোমিটার ফ্লাইওভার নির্মাণ করে সুনামগঞ্জের সাথে ধর্মপাশার যোগাযোগ স্থাপন করা হবে : পরিকল্পনা মন্ত্রী

তাহিরপুরের সাবেক এমপি কালিচরন মুচির পরিবারে এখনও টিকে আছে নাগরী ভাষা

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রতিবাদ-বিক্ষোভ

আমলাদের ‘পাছায় লাথি’ ফর্মুলায় দুঃস্থ তালিকা

গরু চুরির প্রতিবাদ করতে গিয়ে জামালগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষ। আহত ৪।

আওয়ামীলীগের ৬ইউনিটের সম্মেলন প্রস্ততি কমিটি দলকে গতিশীল করতে করা হয়েছে

২০ ফেব্রুয়ারি পরিকল্পনা মন্ত্রীর দিরাই সফর নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত আ.লীগ,দেখানো হতে পারে কালো পতাকা

সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের প্রধান সহকারী ইকবাল ও তার স্ত্রীর সম্পদের উৎস কোথায় ?

সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ পুনর্মিলনী : সদস্যসচিব এর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের

এমপিরা অতঃপর ‘স্যার’ বলবেন ডিসিদের !!

error: Content is protected !!